সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা আজাদ মিয়া হত্যার দ্রুত ন্যায়বিচার চাই পণাতীর্থে লাখ লাখ পুণ্যার্থীর ঢল শাল্লায় ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ : ফসলহানির ঝুঁকির সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল

যারা বিলকে হত্যা করছে, তাদেরকে শাস্তি দিন

  • আপলোড সময় : ২৯-০১-২০২৫ ০৮:৩৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০১-২০২৫ ০৮:৪০:৪০ পূর্বাহ্ন
যারা বিলকে হত্যা করছে, তাদেরকে শাস্তি দিন
গণমাধ্যমে (দৈনিক সুনামকণ্ঠ, ২৮ জানুয়ারি ২০২৫) সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যে, দেখার হাওরের বড়দৈ কাষ্ঠগঙ্গা বিল শুকিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। জলমহাল ইজারা দেওয়ার আইনে আছে বিল শুকিয়ে মাছ ধরা যাবে না, এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রতিবছর এরকম বিল শুকিয়ে মাছ ধরার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, কিন্তু এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিতও করা হয় না, শাস্তিও দেওয়া হয় না। এ বিষয়ে সরকারসংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকেন, এই সত্য অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। খবরওয়ালার ক্যামেরা বড়দৈই বিল শুকিয়ে মাছ শিকারের দৃশ্য দেখে বটে কিন্তু প্রশাসনের চোখে তা পড়ে না। গানে আছে, ‘প্রেমের মানুষ ঘুমাইলে চাইয়া থাকে’, কিন্তু প্রশাসন প্রেমের মানুষ নয়, তাকে অবশ্যই জেগে থাকতে হবে। সমগ্র হাওরাঞ্চলে বিল শুকিয়ে মাছ শিকারের এমন কান্ড বছরের পর বছর ঘটেই চলেছে। প্রকারান্তরে মাছসহ সমগ্র জলপ্রাণপ্রকৃতির অন্যান্য জীব প্রজাতি বিলুপ্তির শিকার হচ্ছে এবং হাওর মাছ-গাছ শূন্য হওয়ার অবস্থায় ক্রমে পর্যবসিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে কেউ কেউ হাওরাঞ্চলকে ‘জলের মরুভূমি’ বলে অভিহিত করতে শুরু করেছেন। জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রজাতি উত্তরোত্তর বিলুপ্তির বিরূপ প্রভাব পড়ছে হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উপর। মানুষ আগেকার মতো সহজে কেবল মাছ থেকে নয়, শরীরে গ্রহণযোগ্য সকল প্রকার জলপ্রাণপ্রকৃতির উপাদান থেকে প্রাপ্ত খাদ্যপ্রাণ ও অন্যান্য ব্যবহারিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে ইতোমধ্যে মানুষ দেহগঠন ও স্বাস্থ্যপ্রাপ্তির উৎকর্ষতার দিক থেকে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্মুখিন হতে শুরু করেছে, মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমে লোপ পাচ্ছে। এইভাবে চলতে থাকলে প্রকারান্তরে শারীরিক পর্যায়ে বামনত্ব ও মেধায় জড়ধী হয়ে পড়ে শারীরিক সামর্থ্য ও মেধানির্ভর আগামী উন্নত পৃথিবীতে টিকে থাকার যোগ্যতা হারাবে এ অঞ্চলের মানুষ। এই একবিংশ শতাব্দির শুরুতেই যদি প্রাকৃতিক সমৃদ্ধিকে ফিরিয়ে এনে মানবজীবনে প্রাকৃতিক আনকূল্যতাকে সংযোজিত করা না যায় তবে সমূহ বিপর্যয়ের জন্য বাংলাদেশের মানুষকে অপেক্ষায় থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিল শুকিয়ে মাছ শিকার মামুলি কোনও বিষয় নয়, মানবপ্রজাতির সদস্য হিসেবে বিলকে ও বিলের প্রাণপ্রকৃতিকে রক্ষা করার অর্থ হলো এ অঞ্চলের মানবপ্রজাতিকে রক্ষা করা এবং তার বিপরীত কাজ করার অর্থ হলো মানবপ্রজাতিকে খুন করা। বিল খুন আর চূড়ান্ত পর্যায়ে মানুষ খুন একই কথা। যারা বিলকে হত্যা করছে, তাদেরকে চিহ্নিত করুন, ধরে শাস্তি দিন, হাওরের মানুষকে বাঁচান।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স